জুন ২, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় ঢাকার বিশেষ আদালতে আজ দ্বিতীয় প্রধান সাক্ষী হিসেবে এক মর্মস্পর্শী জবানবন্দি দিয়েছেন ভুক্তভোগীর মা পারভীনা আক্তার। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির হয়ে নিজের নিষ্পাপ কন্যাসন্তানকে হারানোর সেই লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় মামলার প্রধান আসামি পাষণ্ড সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কঠোর পুলিশি পাহারায় হাজির রাখা হয়েছিল।নিজের আদরের ছোট সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য মায়ের সেই আকুল ও করুণ আকুতির বিবরণ শুনে পুরো আদালত কক্ষের ভেতরে এক অত্যন্ত থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আদালতে পারভীনা আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন যে গত ১৯ মে সকালে তিনি যখন রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন, তখন হঠাৎ পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটি বাচ্চার তীব্র চিৎকারের শব্দ শুনতে পান।
পরবর্তীতে বড় মেয়ে রাইসা ফিরে রামিসার অনুপস্থিতির কথা জানালে তিনি পুরো ভবনে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তিনতলায় প্রতিবেশী সোহেলের বন্ধ দরজার নিচে রামিসার জুতো পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ তীব্র হলে তিনি দরজায় উপর্যুপরি ধাক্কা দিতে থাকেন এবং ভেতর থেকে আসামি স্বপ্নাকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখে বারবার বলেন, "বইন দরজাটা খুল, আমি তোকে কিছু বলব না"।দীর্ঘক্ষণ আকুল অনুরোধের পরও ভেতর থেকে কেউ দরজা না খোলায় পরবর্তীতে বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজার মূল লকটি ভেঙে সবাই ভেতরে প্রবেশ করেন।
বাথরুমে ছোপ ছোপ রক্ত এবং খাটের নিচে মেয়ের খণ্ডিত মরদেহ দেখে তিনি ওখানেই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুর প্রশ্নের জবাবে শোকার্ত মা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্নাকে খুনের সহযোগী এবং সোহেলকে মূল হত্যাকারী হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত করেন। পুলিশি তদন্তের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয় যে মাদকাসক্ত সোহেল শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং লাশ গুম করতে তার স্ত্রী স্বপ্না প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছিল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন