জুন ২, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রথম দিনে একে একে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভিকটিমের স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসার বাবা-মা ও বড় বোনসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোট ১০ জন সাক্ষীর প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শুনানিতে সাক্ষীদের দেওয়া দাপ্তরিক বক্তব্যে উঠে এসেছে গত ১৯ মে ঘটে যাওয়া সেই বীভৎস ও গা শিউরে ওঠা ঘটনার লোমহর্ষক বিভীষিকাময় বর্ণনা।চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় আদালত কক্ষে সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি পুরো আদালত প্রাঙ্গণে এক থমথমে ও আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আদালতে রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন ও চাচি খাটের নিচে পড়ে থাকা শিশুটির গলাকাটা নিথর দেহ এবং বালতিতে রাখা বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধারের রোমহর্ষক বিবরণ দেন।
একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন এবং প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন জানান যে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তাঁরা বাথরুমে তাজা রক্ত দেখতে পান। এ সময় ট্রাইব্যুনালের সুরক্ষিত কাঠগড়ায় উপস্থিত মামলার প্রধান আসামি পাষণ্ড সোহেল রানা ও তার অপরাধের সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে সাক্ষীরা সবাই সরাসরি শনাক্ত করেন।নিহত শিশুর নির্মম ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধারের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের এই অকাট্য জবানবন্দি আসামিদের অপরাধ প্রমাণে অত্যন্ত বড় ভূমিকা রাখবে।
শুনানিতে প্রতিবেশী আবু সামা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে বলেন যে ঘটনার দিন সকালে তিনি পাশের বাসার জানালা বেয়ে খালি গায়ে এক ব্যক্তিকে নিচে নামতে দেখে চোর বলে চিৎকার করেছিলেন। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে আসামির ছবি দেখে তিনি আদালতে নিশ্চিত হন যে জানালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ওই ব্যক্তিই মূলত প্রধান ঘাতক আসামি সোহেল রানা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু জানান যে ১০ জন সাক্ষীর সুনির্দিষ্ট বক্তব্যে আসামির ধর্ষণ, হত্যা ও গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার লোমহর্ষক অপরাধটি সুস্পষ্ঠভাবে প্রমাণিত হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন