জুন ২, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার মুখে বারবার আলোচিত ‘ডলার’ নামের রহস্যময় ব্যক্তির সন্ধান ও সুনির্দিষ্ট পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের সময় ঘাতক সোহেল রানা গণমাধ্যমের সামনে ডলারের অপরাধের সম্পृক্ততার দাবি তুললে নতুন করে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিবিড় অনুসন্ধান শেষে জানিয়েছেন যে ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে ডলারের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দাদের সামাজিক ভাষ্য অনুযায়ী ডলার ওই এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা এবং পেশায় মূলত একজন চরম মাদকাসক্ত অটোরিকশাচালক।
রিকশার গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করার সুবাদে প্রধান আসামি সোহেল রানার সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের পূর্বপরিচয় ও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে দীর্ঘ উনিশ বছর ধরে পরিবারের সাথে সম্পর্ক না থাকলেও তাঁর আপন ভাই ডলারের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
ঘাতক সোহেল রানা দাবি করেছিল যে শিশু রামিসাকে অপহরণ করে এনে দেওয়ার জন্য ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার লোভনীয় টোপ দিয়েছিল।আদালতের কাছে হঠাৎ এই নতুন ও বিভ্রান্তিকর দাবি তোলাকে সুপরিকল্পিত বিচারপ্রক্রিয়া ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া জানান যে ফরেনসিক তদন্তেও অপরাধের দিন ঘটনাস্থলে ডলারের উপস্থিতির কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি।
গত উনিশ মে পল্লবীর আবাসিক বাসা থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করার পর ঘাতক সোহেল রানাকে ফতুল্লা থেকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র দাখিল করেছে এবং ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন