শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

রামিসা হত্যা মামলা আদালতে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ১১:২০ এএম

রামিসা হত্যা মামলা আদালতে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি শুনানি শুরু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্র নিয়োজিত আসামিপক্ষের বিশেষ আইনজীবী মূসা কলিমুল্লাহ এই শুনানি শুরু করেন।

তিনি প্রধান অভিযুক্ত কুখ্যাত সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আদালতে বিভিন্ন আইনি যুক্তি ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করছেন।নির্দোষ শিশু রামিসার এমন বর্বরোচিত ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো ঢাকা শহরসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে এই সংবেদনশীল শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে আদালতে আনা হয়। 

ট্রাইব্যুনালের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কারাবন্দী এই দুই আসামিকে আদালত ভবনের ঢাকা মহানগর হাজতখানায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে গত মঙ্গলবার এই চাঞ্চল্যকর মামলার নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চূড়ান্তভাবে শেষ হয় যেখানে তালিকাভুক্ত ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি প্রদান করেন।মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মায়ের দেওয়া অশ্রুসিক্ত জবানবন্দি আদালতে উপস্থিত সকলের মাঝে এক হৃদয়বিদারক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল।

গত সোমবার একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ধর্ষণ, নির্মম হত্যা এবং লাশ গুম করার মতো গুরুতর অপরাধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ দিয়েছিলেন। গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। পল্লবী থানার এসআই মো. অহিদুজ্জামান দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে গত ২৪ মে আদালতে চার্জশিট জমা দিলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়ে এই ত্বরিত বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে শুরু করেন।