বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা বড় অঙ্কের জরিমানাও দিতে হবে সোহেল-স্বপ্নাকে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৭, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা বড় অঙ্কের জরিমানাও দিতে হবে সোহেল-স্বপ্নাকে

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় দুই আসামিকে আদালতে আনা হয়। সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে এবং স্বপ্না আক্তারকে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ১১টায় বিচারক এজলাসে বসে রায় পাঠ শুরু করেন। 

কাঠগড়ায় থাকা সোহেল রানা এ সময় মুখে মুখোশ পরে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাশে বসা স্বপ্না আক্তার অঝোরে কাঁদছিলেন।ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এই রায় ঘোষণা করা হলো, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে দ্রুততম বিচারের একটি নজির। গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্ত শেষে ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া। ঈদুল আজহার ছুটির কারণে ১ জুন অভিযোগ গঠন এবং ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল।

সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক আলামত পর্যালোচনার পর আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় সোহেল রানা ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন, তার একটি সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাবি করেছে, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি প্রকাশ পেয়েছে।