জুন ৭, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।রায়ের পর আদালত চত্বরে স্বস্তি ও প্রতিক্রিয়ার মিশ্র এক পরিবেশ তৈরি হয়।
রোববার দুপুরে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়েছে।
সকাল ১১টায় বিচারক এজলাসে বসে রায় পাঠ শুরু করেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায়ের বিভিন্ন অংশ পাঠ শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণা করা হয়।রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ার দৃশ্য ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মুখে মাস্ক পরা সোহেল রানা দেওয়ালে হেলান দিয়ে নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন।
অন্যদিকে তার পাশে বসে থাকা স্বপ্না আক্তারকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। রায়ের পর উপস্থিত জনতার বড় একটি অংশের দাবি, এখন শুধু একটাই আশা—দ্রুত বিচার কার্যকর হোক, যাতে আইনের প্রতি বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়।গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও রায়—সব বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মামলার ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন নিহত শিশুর বাবা-মা, স্বজন, প্রতিবেশী ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।
আদালত রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক আলামত পর্যালোচনার পর এই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছেন। উপস্থিত আইনজীবীরা জানান, দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় জনমনে স্বস্তি প্রকাশ পেয়েছে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এমন আলোচিত মামলাগুলোর বিচার দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে। সমাজ ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে এই রায় একটি শক্ত বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন