জুন ৭, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
রামিসা হত্যা মামলার বিচার মাত্র ৬ কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।বিচার বিভাগ নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
আইনমন্ত্রী বলেন, ১৮৮২ সালে নদীয়ার সেশন কোর্টে মুল্লুক চাঁদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৯ বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার মামলার বিচার একদিনে হয়েছিল। এরপর এতো দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার ঘটনা বিরল। আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই মামলার বিচার শেষ করেছি। ঘোষিত রায়ে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে।
এর আগে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। রায়ে সোহেলকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পল্লবীর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় জনমনে স্বস্তি প্রকাশ পেয়েছে।গত ১৯ মে পল্লবীর বাসা থেকে আট বছর বয়সী শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধারের পর এই মামলাটি দায়ের হয়। ঘটনার ৫ দিনের মাথায় তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ঈদের ছুটির কারণে ১ জুন অভিযোগ গঠন ও ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ৩ ও ৪ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করেছে। অবকাশকালীন ছুটি থাকা সত্ত্বেও আদালতের ছুটি বাতিল করে বিচারকাজ শেষ করা হয়েছে। সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়, যা এই মামলায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন