জুন ৭, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আগামী তিন মাসের মধ্যেই পল্লবীতে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার দুপুরে রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, আজ যে দ্রুততার সঙ্গে রামিসা হত্যার বিচার হয়েছে, তা সরকার একা করেনি। প্রধান বিচারপতি যদি ১৫ জুন পর্যন্ত বিচারকদের ছুটি বাতিল না করতেন, তবে এই গতিতে কাজ করা সম্ভব হতো না।
বিচার শেষ করার রূপরেখা দিয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছালে পরের সপ্তাহ থেকেই পেপার বুক তৈরির কাজ শুরু হতে পারে। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে পেপার বুক প্রস্তুত হলে বিশেষ বিবেচনায় মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। শুনানির কাজ দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা গেলে আপিল বিভাগের কার্যক্রমে মামলাটি যাবে।
সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি তিন মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সব মামলাকে এভাবে ফাস্ট ট্র্যাকে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাস্তবসম্মত পথ খুঁজে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।এর আগে মাত্র ছয় কার্যদিবসে রামিসা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়, যা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। ১৮৮২ সালে নদীয়ার একটি হত্যাকাণ্ডের মামলার পর এতো দ্রুত বিচার আর সম্ভব হয়নি।
ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের জরিমানা করা হয়েছে।গত ১৯ মে পল্লবীর বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সব আইনি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের ছুটি থাকা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করে বিচারকাজ চালানো হয়েছে। আইনমন্ত্রী মনে করেন, এই ধরনের দ্রুত বিচার জনমনে আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন