শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট

ছবি - সংগৃহীত

প্রমাণিত নয় বা আইনত কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কোনোভাবেই মা-বাবার তালাক সংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি শিশুর একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার। সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এক দম্পতির মধ্যে পরবর্তীতে দেনমোহর ও ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।

স্ত্রী ও তাদের নাবালক সন্তানের পক্ষে আদালতে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা দায়ের করা হলে স্বামী দাবি করেন যে তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে তিনি আইন অনুযায়ী সেই তালাক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি প্রদান করেন। পরে স্বামী নতুন একটি মামলা দায়ের করে তালাক কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেন এবং সেই অজুহাতে ভরণপোষণের ডিক্রি স্থগিতের আবেদন জানান। নিম্ন আদালত আবেদনটি খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।

রায়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে—এই কারণে পূর্বে প্রদত্ত চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত সেটি কার্যকর থাকবে। যে তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় বা কার্যকর হয়নি, তার আইনগত কোনো কার্যকারিতা নেই। এমন তালাক বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং ভরণপোষণ বা দেনমোহরের ডিক্রি বাস্তবায়নের পথে কোনো আইনি বাধাও সৃষ্টি করতে পারে না।

হাইকোর্ট আরও বলেন, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর এবং ভরণপোষণ সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের। নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের অধিকার একটি স্বাধীন আইনগত অধিকার। মা-বাবার মধ্যে বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না। একজন পিতা কেবল তালাক সংক্রান্ত বিরোধের অজুহাতে সন্তানের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

আদালত স্বামীকে বকেয়া দেনমোহর এবং স্ত্রী ও সন্তানের সকল বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।