শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

হাসিনার রায় ঘিরে চুপ থাকবে না আ. লীগ: বিশ্লেষকদের শঙ্কা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৪:১৭ পিএম

হাসিনার রায় ঘিরে চুপ থাকবে না আ. লীগ: বিশ্লেষকদের শঙ্কা

আগামী ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এবং সাবেক আইজি আবদুল্লাহ আল মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটিই হবে প্রথম রায়। এই রায়কে ঘিরে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা চুপ থাকবে না এবং নাশকতার অপচেষ্টা আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে দলটি ঝটিকা মিছিল ও চোরাগোপ্তা ককটেল হামলার মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং রায় ঘিরে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য লকডাউন কর্মসূচির ঘোষণাও এসেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, সামনের দিনগুলোয় দলটির এমন নাশকতার অপচেষ্টা আরও বাড়বে এবং জনগণের জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার প্রবণতা চলমান থাকবে। তিনি আশঙ্কা করছেন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে বিপুল অর্থ ও অস্ত্রের ব্যবহারের পথও তারা বেছে নিতে পারে। ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে প্রায় ৮ হাজার নেতাকর্মীর অবৈধ অস্ত্র রয়েছে এবং সেগুলোর ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯৯৬ এবং ২০০৬ সালেও দলটির এমন সহিংস কর্মসূচি দেখা গিয়েছিল, এবারও সেই পথে হাঁটছে নৌকার নেতাকর্মীরা।

ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান তার শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজপথে পিটিয়ে মানুষ মারার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা আমাদের গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের এই অপতৎপরতা প্রতিহত করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তিনি আশা করেন সরকার সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ নজর দেবে। এদিকে, শেখ হাসিনার মামলার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে আরও বেশ কয়েকটি মামলার বিচার কাজ প্রায় শেষের দিকে।

এসব মামলার রায়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি চলায় সংকট আরও ঘনীভূত হবার শঙ্কা দেখছেন বিশ্লেষকরা। আলতাফ পারভেজ বলেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ আরও কর্মসূচি দেবে এবং অন্য দলগুলো তাতে বাধা দেবে। এর পাশাপাশি নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতাও শুরু হবে যা কঠোর হাতে মোকাবেলা করা জরুরি। উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়েছে।