নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৫:০৭ পিএম
কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন নতুন চার দফা কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হওয়া এই সম্মেলন দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে।
দিনব্যাপী এই মহাসম্মেলনে বিএনপি জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং দেশ-বিদেশের বরেণ্য আলেমরা যোগ দেন।সম্মেলনের মঞ্চ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা না হলে পরবর্তী বছরে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন থেকে আরও কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি ঘোষিত কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন: প্রথমত, আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতার গণস্বাক্ষর গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয়ত, মে ও জুন মাসে দেশের প্রতিটি জেলার ডিসিকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। তৃতীয়ত, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় খতমে নবুওয়ত সম্মেলন আয়োজন করা হবে। এরপরও যদি দাবি আদায় না হয় তবে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেম-ওলামাদের নিয়ে ডিসেম্বরে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন করবে খতমে নবুওয়ত পরিষদ।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, যারা আল্লাহর রাসুলকে (সা.) স্বীকার করে না, তাদের বিএনপি মুসলিম হিসেবে মনে করে না এবং দেশের মানুষ যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ও সবাই সহযোগিতা করেন, তাহলে খতমে নবুওয়ত কমিটির দাবির বিষয়ে বিএনপি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে এবং এ বিষয়ে মুসলিম বিশ্বে কোথাও কোনো দ্বিমত নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য মাওলানা ফজলুর রহমান, ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুফতি আবুল কাসেম নোমানি, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানীসহ পাঁচটি দেশের প্রখ্যাত আলেমরা অংশ নেন।
এছাড়াও দেশের শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রমুখ এই সম্মেলনে বক্তব্য দেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন