মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বুধবার সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি। বৈঠকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার কার্যক্রমে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে আলোচনায় স্থান পায়।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের বিষয়টি রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার দেশে প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতে বদ্ধপরিকর।
অতীতের ফ্যাসিস্ট আমলের সমালোচনা করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশকে অতিমাত্রায় বলপ্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনীকে একটি পেশাদার ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকে ডিজিটাল প্রতারণা ও স্ক্যাম প্রতিরোধের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিটে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এটি নির্মূল করা অসম্ভব। রাষ্ট্রদূত এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট ও ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে বলে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সংস্কার অপরিহার্য। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সিলর আলবার্তো জিওভানেত্তি উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইমের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ পৃথক একটি বৈঠক সম্পন্ন করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন