এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর চাপ কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা ও নির্দেশনার বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগের আওতায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ইলেকট্রিক বাস চালু করতে আগ্রহী হবে, তারা শুল্কমুক্তভাবে এসব বাস বিদেশ থেকে আমদানির বিশেষ সুযোগ পাবে। মূলত শহরগুলোর তীব্র যানজট নিরসন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাসের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস সশরীরে হবে নাকি অনলাইন পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী রোববার জানানো হবে বলে সচিব নিশ্চিত করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় রোধে এই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছে নীতি নির্ধারক মহল।মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে কেবল শিক্ষাখাতই নয়, বরং দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কিছু কঠোর মিতব্যয়িতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আগামী রোববার থেকে সরকারি ও বেসরকারি সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এবং ব্যাংকগুলোর লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। গ্রাহক সেবা শেষে ৪টার মধ্যে ব্যাংকের সব কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে দেশের সব ধরণের শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে। তবে কাঁচাবাজার, খাবারের দোকান ও ওষুধের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া বিয়ে বা যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে সব ধরণের আলোকসজ্জার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে আগামী তিন মাসের জন্য আরও কিছু বিশেষ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে কোনো ধরণের যানবাহন, জলযান বা আকাশযান ক্রয় করা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। কম্পিউটারের মতো নতুন অফিস সরঞ্জাম কেনাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে বিদেশে সব ধরণের প্রশিক্ষণ স্থগিত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সভা-সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যয়ও ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় অন্তত ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যা বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায় যে জেলা পর্যায়েও এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন