বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ কার্যক্রম শুরু

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ কার্যক্রম শুরু

দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা নিশ্চিত করতে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে ‘ফুয়েল পাস’ নামক একটি কিউআর কোডভিত্তিক অ্যাপ চালু করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বৃহস্পতিবার থেকে এই অ্যাপটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ঢাকার দুইটি নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশনে এই পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। 

তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশনে এখন থেকে এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে।

বিদ্যমান ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণের কারণে প্রায়ই স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হতে দেখা যায়। এছাড়া একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল সিস্টেমটি পুরো বিতরণ প্রক্রিয়াকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসবে। এই সিস্টেমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সরাসরি বিআরটিএর কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে প্রতিটি যানবাহনের জন্য বরাদ্দকৃত তেলের পরিমাণ রিয়েল-টাইমে মনিটরিং করা সম্ভব হবে। যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে কিউআর কোডটি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সিস্টেমটি চালু হওয়ার ফলে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটাল মাধ্যমেই তাদের জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন এবং গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন। চালকরা কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমেই নিজের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ দেখতে পাবেন এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে তেল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে না। কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানির মজুদ ও সরবরাহের অবস্থা মুহূর্তেই পর্যবেক্ষণ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এতে করে সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ মনে করছে, এই আধুনিক ব্যবস্থা বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যেকোনো ধরণের অনিয়ম বা অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। ঢাকার এই পাইলটিং প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপটি বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে এই উদ্যোগটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।