বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

নতুন বছর বরণে প্রস্তুত চারুকলা নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

নতুন বছর বরণে প্রস্তুত চারুকলা নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা

চারুকলার বৈশাখী প্রস্তুতি

বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩ বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবের আমেজে মঙ্গলবার সকালে বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন সূর্যকে স্বাগত জানাবে দেশবাসী। এবারের আয়োজনে চারুকলার প্রাঙ্গণজুড়ে এখন উৎসবের ঘনঘটা। 

শিক্ষার্থীদের নিপুণ তুলির ছোঁয়ায় প্রাণ পেয়েছে লোকজ ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ।শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হিসেবে এবার তৈরি করা হয়েছে বিশাল আকৃতির মোরগ, হাতি ও দোতারার মোটিফ। 

এগুলোর প্রাথমিক কাঠামো তৈরির কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। শেষ সময়ে ঘোড়া ও পায়রার প্রতিকৃতিতে রঙের আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পীরা। আয়োজক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে জানান, সোমবারের মধ্যেই সব প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে এই বিশাল মোটিফগুলো শোভাযাত্রার জন্য বিশেষায়িত গাড়িতে তোলা হবে।

পয়লা বৈশাখের এই আনন্দ আয়োজনকে ঘিরে চারুকলা প্রাঙ্গণ যেন রঙের এক জীবন্ত কর্মশালায় রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা দিন-রাত এক করে সরা চিত্র, মাটির টেপা পুতুল এবং জলরঙের নান্দনিক পেইন্টিং তৈরি করেছেন। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য বিশেষ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে এই প্রতিপাদ্যের আলোকে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর উত্তর গেট থেকে বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রা শুরু হবে। এর আগে সকাল ৮টা থেকেই অংশগ্রহণকারীরা সমবেত হতে শুরু করবেন। শোভাযাত্রার রুট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে চারুকলা থেকে শাহবাগ মোড়, সেখান থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমি এলাকা প্রদক্ষিণ। এরপর শোভাযাত্রাটি আবারও চারুকলা অনুষদে ফিরে এসে শেষ হবে।

উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুধু নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় ব্যবহার করা যাবে। নিরাপত্তার স্বার্থে অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র সাথে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের ব্যাগ বহন করা বা মুখোশ পরে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে চারুকলা থেকে তৈরি করা মুখোশগুলো হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। এছাড়া ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টার পর ক্যাম্পাসে নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না, শুধু বের হওয়া যাবে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারহীন সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। জরুরি সেবার জন্য টিএসসি ও কার্জন হল এলাকায় কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ।