বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

দুঃখ-গ্লানিকে বিদায় দিয়ে বর্ষবরণের আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায় বাঙালি

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম

দুঃখ-গ্লানিকে বিদায় দিয়ে বর্ষবরণের আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায় বাঙালি

নববর্ষের প্রস্তুতি

অপেক্ষা মাত্র কয়েক ঘণ্টার। পূর্ব দিগন্তে নতুন বছরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। অতীতের সব দুঃখ-গ্লানি আর জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পুরো জাতি এখন উৎসবের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে। প্রতিবারের মতো এবারও রমনার বটমূলে ভোরের সুরের মূর্ছনায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। 

অন্যদিকে আবহমান বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

চারুকলা অনুষদে গিয়ে দেখা যায়, শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কাঠ, বাঁশ আর কাগজের অবয়বে প্রাণ পাচ্ছে বিভিন্ন লোকজ মোটিফ। বাঘ, সিংহ ও প্যাঁচার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে রঙিন শখের হাঁড়ি। শিক্ষার্থীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন টেপা পুতুল, শান্তির পায়রা ও সূর্যের প্রতিচ্ছবি।

 বিশেষ করে বাউলদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ স্বরূপ এবার নির্মাণ করা হয়েছে বিশালাকৃতির দোতরা। চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ এই আয়োজনকে বাঙালির প্রাণের সম্মিলন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, পুরো শোভাযাত্রাটিই একটি বৃহৎ ক্যানভাস যা আমাদের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিকে ধারণ করে।এদিকে রমনা বটমূলে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরের মূর্ছনায় বর্ষবরণের মহড়া সেরেছে ছায়ানট। ভোরের আলো ফোটার আগে শিশিরভেজা বাতাসে সুর, বাণী আর ছন্দের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী এই প্রভাতী আয়োজন। 

এবারের আসর সাজানো হয়েছে আটটি সমবেত সংগীত, ১৪টি একক গান এবং দুটি আবৃত্তি দিয়ে। ছায়ানটের যুগ্ম সম্পাদক জয়ন্ত কুমার রায় জানান, প্রায় তিন মাস আগে থেকেই তারা এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবারের বর্ষ ভাবনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নির্ভীক চিত্তের জয়গানকে।নিরাপত্তার বিষয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে এলিট ফোর্স র‍্যাব। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে রমনা বটমূলে এরই মধ্যে নিরাপত্তা মহড়া দিয়েছে বাহিনীটি। 

র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, এবারের উৎসব ঘিরে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নাশকতার হুমকি বা শঙ্কা নেই। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং কুচক্রী মহলের অপতৎপরতা রুখতে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা দল সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে। সব মিলিয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে বর্ষবরণের উৎসবে মেতে উঠতে এখন শুধুই নতুন ভোরের অপেক্ষা।