বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

নতুন শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

নতুন শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলমান অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে বিকল্প ও নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য দেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। 

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্রগুলো হলো সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এসব দেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। 

পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নতুন শ্রমবাজারের অনুসন্ধান এবং সেখানে পেশাভিত্তিক চাহিদার বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে কর্মী প্রেরণের পথ সুগম করতে প্রয়োজনে দক্ষ লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তারেক রহমান তার বক্তব্যে আরও জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রচুর চাহিদা থাকায় সেখানে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) জাপানি ভাষা শেখানো হচ্ছে এবং একইসাথে রুশ, আরবি, জার্মান ও ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগের কাজ চলছে। এ পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।