বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

বার কাউন্সিল নির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

বার কাউন্সিল নির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি: আইনমন্ত্রী

সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে বার কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই নির্বাচনে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। 

মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধ এবং বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিন সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ তোলেন যে, গত মধ্যরাতে হঠাৎ নোটিশ দিয়ে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। 

তিনি প্রশ্ন করেন, একদিকে সরকার জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করছে, অন্যদিকে একই প্রশাসনের একটি সংস্থার নির্বাচনে কেন এই কারণ দেখানো হলো। সংসদ সদস্য আরও বলেন যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের উদ্দেশ্যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। 

এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, যেকোনো যুক্তিসংগত কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় নির্বাচন স্থগিত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন যে, তিনি তথ্যের কেবল একটি অংশ পেশ করেছেন যা কেবল তার প্রয়োজনে লেগেছে।আইনমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বেশ কয়েকটি বড় বার অ্যাসোসিয়েশন তাদের নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় রাখার স্বার্থে ভোট পেছানোর লিখিত অনুরোধ জানিয়েছিল। 

বিশেষ করে ঢাকা বারের ২২ হাজারেরও বেশি আইনজীবী সদস্যের নির্বাচন ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রী কটাক্ষ করে কবিতার ভাষায় বলেন যে, যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু তথ্যই কেবল বিরোধী সংসদ সদস্য সামনে এনেছেন।বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। 

তবে এবারের এই সিদ্ধান্ত কোনো দলীয়করণ বা বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নয় বরং প্রশাসনিক ও পেশাদার প্রয়োজনে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আসাদুজ্জামান। এই নির্বাচন স্থগিত নিয়ে সংসদে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বাদানুবাদ চলতে দেখা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও আইনমন্ত্রী তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন।