বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায়:তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায়:তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্রের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই চক্রটি এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে, তাই অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি। বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, জাতীয় নেতাদের অবদানকে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা অপরিহার্য। 

ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে অনীহা প্রকাশ করাকে তিনি হীনমন্যতার পরিচয় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সঠিক ইতিহাসকে অস্বীকার করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।

বক্তব্য চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি উক্তি উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যই আমাদের মূল শক্তি এবং বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক, তবে সেই মতপার্থক্য যেন কখনোই শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করার ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন।

চলতি বছর জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং সমাজসেবাসহ বিভিন্ন শাখায় এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের জাতির গর্ব হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এখনো কিছু অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, তাঁদের এই কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি প্রয়াত গুণীজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। বাংলাদেশের এই জাতীয় অর্জনগুলো অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় ধরণের স্বীকৃতি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।