বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৬০ পদক্ষেপ: কী আছে এই তালিকায়?

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৬০ পদক্ষেপ: কী আছে এই তালিকায়?

প্রধানমন্ত্রীর ৬০ পদক্ষেপ

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ করেছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনকল্যাণে গৃহীত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব উন্নয়নমূলক ও সংস্কারমুখী পদক্ষেপের বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নবনিযুক্ত মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। 

বর্তমান সরকারের কাজের গতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি স্বচ্ছ চিত্র ফুটে উঠেছে এই তালিকায় যা দেশবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা যার মাধ্যমে প্রতি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। 

কৃষিখাতের উন্নয়নে ১০টি জেলায় ২২ হাজার কৃষকের মাঝে বিশেষ সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষে কাজ শুরু করেছে সরকার।প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

তিনি রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনা ব্যবহার না করে নিজের ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকছেন এবং নিজের গাড়ি ও তেলের খরচ নিজেই বহন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল ব্যাপকভাবে সংকুচিত করা হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সকাল ৯টায় অফিস নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লট না নেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা রাষ্ট্রের অপচয় রোধে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে ই-নামজারি বাধ্যতামূলক করা এবং সরকারি অফিসের ৪ লাখ ৬৮ হাজারেরও বেশি শূন্য পদ পূরণের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এসেছে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা। উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সুবিধা চালু করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষকসহ সব শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে এবং বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির নতুন পথ উন্মোচন করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এবং ইউরোপের ৭টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পে-পাল বাংলাদেশে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার লক্ষে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে যার বিশাল অংশই নারী। প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রায় ৫ হাজার মসজিদ এবং এক হাজারেরও বেশি মন্দির ও চার্চের প্রতিনিধিদের মাসিক সম্মানীর আওতায় আনা হয়েছে। হজ খরচ টিকিট প্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে যা সাধারণ হাজিদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। 

এ ছাড়া পরিবেশ রক্ষায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মসূচি এবং নদী রক্ষায় ৫ বছরের কারাদণ্ডের কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।মানবাধিকার রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। 

বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের সঙ্গে আইনি সহায়তা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আলোচনার পথও উন্মুক্ত করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ৬০টি পদক্ষেপ কেবল দুই মাসের অর্জন নয় বরং একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর।