বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু

জাতীয় ডেস্ক

মে ২০, ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। আজ বুধবার থেকে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটিশনে বিতরণ কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রস্তাবের ওপর দুদিনের গণশুনানি শুরু হচ্ছে।পাইকারি পর্যায়ে ইউনিট প্রতি সর্বোচ্চ এক দশমিক ৫০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ডেসকো, ডিপিডিসি, ওজোপাডিকো এবং নেসকো এই মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছে। প্রস্তাবে পাইকারি পর্যায়ে ইউনিট প্রতি এক দশমিক ২০ টাকা থেকে এক দশমিক ৫০ টাকা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়তে পারে এক দশমিক ২৯ টাকা থেকে এক দশমিক ৬১ টাকা পর্যন্ত।

বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ১২ টাকার বেশি। গড় বিক্রয়মূল্য সাত টাকার কিছু বেশি। সরকারকে প্রতি ইউনিটে প্রায় পাঁচ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরও ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

ওই বছর এক লাখ এক হাজার ১৮৭ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। তখন প্রতি ইউনিটের গড় উৎপাদন খরচ ছিল ১১ দশমিক ৮৩ টাকা এবং পাইকারি বিক্রি করা হয়েছে ছয় দশমিক ৯৯ টাকায়। প্রতি ইউনিটে পাঁচ দশমিক ৯৯ টাকা লোকসান হয়। চলতি অর্থবছর শেষে মোট ঘাটতির পরিমাণ ৫৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে।আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয় বাবদ মোট ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৭ দশমিক এক মিলিয়ন টাকা রাজস্ব চাহিদা বিবেচনা করা হচ্ছে। তখন প্রতি ইউনিটে গড় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াবে ১২ দশমিক ৯১ টাকা। বিদ্যমান ট্যারিফে রাজস্ব আদায় হবে সাত লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮ দশমিক চার মিলিয়ন টাকা। পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াবে ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন টাকা।

এই বিপুল ঘাটতি সামাল দিতে দুটি বিকল্প ভাবা হচ্ছে।গড় বিক্রয়মূল্য ইউনিট প্রতি এক দশমিক ২০ টাকা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৩ হাজার ২৯৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা। ইউনিট প্রতি এক দশমিক ৫০ টাকা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৬ হাজার ৬৬২ দশমিক ৭০ কোটি টাকা। দাম কিছুটা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ খাতে অন্তত ১০ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি কমানো সরকারের লক্ষ্য।দাম বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের ব্যবহারের স্ল্যাব সমন্বয়েরও প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি। বর্তমানে থাকা ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটের স্ল্যাবটি পরিবর্তন করে শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট করার কথা বলা হয়েছে। এতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতিরিক্ত দুই হাজার ৬৫৭ দশমিক ১২ কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে দুই হাজার ৮৪৫ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা ভর্তুকি কমানো সম্ভব হবে। 

এই পরিবর্তনের ফলে দরিদ্র গ্রাহকরা সুরক্ষা পাবেন এবং ধনী গ্রাহকদের অংশে ভর্তুকির পরিমাণ হ্রাস পাবে।বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা এই মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে তৈরি হওয়া অলিগার্ক ও লুটেরা শ্রেণির ভয়াবহ লুটপাটের বিচার হওয়া জরুরি বলে তারা মনে করেন। ওই সময়ের লুটের দায় এখন সাধারণ মানুষকে শোধ করতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়। সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের উদ্দেশ্যে বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে আগামী জুনের শুরু থেকেই বর্ধিত মূল্য কার্যকর করতে চায় বিতরণ কোম্পানিগুলো।