জুন ৩, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
দেশের পাইকারি ও গ্রাহক বা খুচরা—উভয় পর্যায়েই আবারও বড় অংকে বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি আজ বুধবার বিকালের দিকে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যুতের এই নতুন মূল্যহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে। তবে নতুন ঘোষিত এই বর্ধিত মূল্যহার চলতি জুনের ১ তারিখ থেকেই কার্যকর করা হবে বলে কমিশনের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল সূত্রটি বিশেষভাবে নিশ্চিত করেছে।
দেশের নতুন সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের সরকারি ভর্তুকির তীব্র চাপ কমানোর লক্ষ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই মূল্যবৃদ্ধির যৌথ আবেদন করেছিল।কমিশন সূত্রে জানা গেছে যে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৯ শতাংশের মতো বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গ্রাহক পর্যায়ে তা সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এর আগে গত ২০ এবং ২১ মে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে এক গণশুনানি অত্যন্ত সফলভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা বিপিডিবি তাদের আবেদনে জানিয়েছে যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয় বাবদ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি পূরণের জন্যই মূলত দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।তবে দেশের বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে চলমান অনিয়ম বন্ধ না করে বারবার মূল্যবৃদ্ধির এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন সাধারণ নাগরিকেরা।
গণশুনানিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ক্যাবের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই গণবিরোধী পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য জোর দাবি জানান। ব্যবসায়িক সংগঠন বিকেএমইএর পক্ষ থেকেও হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ালে তা তৈরি পোশাক শিল্পসহ সামগ্রিক রপ্তানি খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে চরমভাবে দুর্বল করে দেবে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দর ইউনিট প্রতি ছয় দশমিক ৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাত দশমিক চার টাকা করা হয়েছিল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন