রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অবহেলায় মায়ের মৃত্যু, যুগ্ম সচিব ছেলে ওএসডি

জাতীয় ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

অবহেলায় মায়ের মৃত্যু, যুগ্ম সচিব ছেলে ওএসডি

সন্তানদের চরম অবহেলা ও দেখভালের অভাবে রাজধানী ঢাকার মিরপুরের একটি আবাসিক বাসায় ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের রহস্যজনক ও বেদনাদায়ক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বড় ছেলে এবং সরকারের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

বুধবার বিকেলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই কঠোর ও সংবেদনশীল প্রশাসনিক শাস্তিমূলক প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন পারিবারিক নৈতিক অবক্ষয় এবং চরম গাফিলতির বিষয়টি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা সুশাসন এবং নৈতিক সমাজ বিনির্মাণের প্রধান শর্ত।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য বা যুগ্ম সচিব পদে দায়িত্বরত ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে বর্তমান পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত বা ওএসডি করা হলো। এর আগে বুধবার সকালে গণমাধ্যমের সামনে মায়ের প্রতি এমন অমানবিক অবহেলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশের প্রচলিত পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পারিবারিক অবহেলা ও প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় এই আইনের কঠোর প্রয়োগ উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।উল্লেখ্য যে গত ৩১ মে ঢাকার মিরপুরের একটি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর বাসা থেকে নুরজাহান বেগমের পচাগলা নিথর মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ, যা ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থমূলক রিট মামলার জন্ম দিয়েছে। 

বৃদ্ধার সন্তানেরা প্রত্যেকেই সমাজে অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিত্তশালী হওয়া সত্ত্বেও প্রবীণ মায়ের প্রতি এমন চরম নিষ্ঠুরতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতকে নিবিড় তদন্তে বাধ্য করছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এই মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করে আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা হবে।