বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৯, ২০২৬, ১০:৪০ এএম

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিন দিনের সফর শেষে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কেবল বাণিজ্য ও উন্নয়নে সীমাবদ্ধ না রেখে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার দৃঢ় বার্তা দিয়ে গেছেন। সফরের অন্যতম প্রধান অর্জন হলো দুই দেশের সম্পর্কের নতুন তিন কাঠামোর ঘোষণা।

এই কাঠামোগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে নিয়মিত ‘২+২ বৈঠক’। বিশ্বের মাত্র কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে তুরস্ক এই ধরনের কাঠামো বজায় রাখে। এর পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বৈঠককে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উন্নীত করা এবং দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়ের জন্য একটি স্থায়ী পরামর্শক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোসমূহ প্রমাণ করে যে আঙ্কারা এখন ঢাকাকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। 

তুরস্কের ‘এশিয়া এনিউ’পররাষ্ট্রনীতির আওতায় তারা এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। বাংলাদেশ এখন বিশ্বরাজনীতি ও ভূ-অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় তুরস্ক তাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও গভীর করতে আগ্রহী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বর্তমান পরিমাণ (১৩০ কোটি ডলার) থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি ও সুনীল অর্থনীতির মতো খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে আঙ্কারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ক এখন ব্যক্তিনির্ভরতা কাটিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি, কাঠামোগত ও স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই কৌশলগত সহযোগিতার গভীরতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।