বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

নতুন সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত বাজেট অধিবেশন শুরু

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

নতুন সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত বাজেট অধিবেশন শুরু

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বহুল প্রতীক্ষিত প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাব শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে এই বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপরই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশে গঠিত নতুন রাজনৈতিক সরকারের হয়ে প্রথম বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১১২ দিনের মাথায় এই বিশাল আয়-ব্যয়ের হিসাব ঘোষণা হচ্ছে।

কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত একটানা চলবে এবং সামষ্টিক বাজেট নিয়ে সংসদে মোট ৪০ ঘণ্টা সাধারণ আলোচনা হবে। বর্তমান দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে তীব্র মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, বিনিয়োগ মন্দা ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের এক ধরনের স্থবিরতার মাঝে এই বিশাল বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কঠিন বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েই দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে। নতুন এই বাজেটে সবচেয়ে বড় চমক ও সুখবর থাকছে দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের জন্য, যেখানে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সামগ্রিক বরাদ্দ এক লাফে প্রায় দ্বিগুণ করে ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা করা হয়েছে।

নতুন বাজেটে করদাতাদের বড় ধরনের স্বস্তি দিয়ে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার যুগান্তকারী ঘোষণা আসছে। তবে নতুন এই মেগা বাজেটের মোট ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি তৈরি হতে যাচ্ছে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর, যেখান থেকে আগামী এক বছরে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়াও সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই বাজেটে নতুন করে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বাড়তি সুবিধা পেতে শুরু করবেন বলে অর্থ বিভাগ নিশ্চিত করেছে।