অক্টোবর ১, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
সংসদ সদস্য পদ থেকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ আসার পর এর নেপথ্য কারণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। দলীয় নির্দেশনায় সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করা হলেও মূলত মিরপুরের একটি সেবামূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখল ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত এসেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর এক নম্বর এলাকায় রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আকস্মিক হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে বুলডোজার দিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রটির পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে `সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড` নামের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। নথিপত্র বলছে ওই সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন খোদ সংসদ সদস্য মিষ্টি। একটি দীর্ঘদিনের সেবামূলক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এভাবে ধ্বংস করে অবৈধ দখলের প্রচেষ্টায় দলীয় সংসদ সদস্যের নাম জড়িয়ে পড়ায় নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
বিভিন্ন অনুসন্ধানী তথ্য ও সিসি ক্যামেরার দৃশ্যে দেখা যায়, তাণ্ডবের সাথে জড়িতদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তৎকালীন প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ছিলেন, যারা স্থানীয় রাজনীতিতে সংসদ সদস্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনা ছাড়াও অতীতে শাহ আলী থানার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও জোরপূর্বক জমি দখলের নানা অভিযোগ উঠেছিল।
ঘটনার পর থেকেই সার্বিক বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে সরকার। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী গত দুই দিন ধরে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করেন। হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং নেপথ্যে থেকে কারা ইন্ধন জুগিয়েছে—এসব বিষয়ে বিশদ অনুসন্ধান চালানো হয়। তদন্ত প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সক্রিয় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনো ধরনের আপস না করার নীতি নিয়েছে দলটি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র কাণ্ডের পরপরই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের তৎকালীন আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। একই সাথে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এ ছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের একাধিক বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন