বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
শারদীয় দুর্গোৎসব প্রস্তুতি

দেউলী রথবাজারে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ দুর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

দেউলী রথবাজারে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ দুর্গোৎসব

ছবি: দিনাজপুর টিভি

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দেউলী আরাজী লস্করা রথবাজার মণ্ডপে চলছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম সর্ববৃহৎ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট চওড়া ভিত্তির ওপর তৈরি করা হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ ফুটেরও বেশি উচ্চতার সুবিশাল দৃষ্টিনন্দন এক প্রবেশদ্বার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও হঠাৎ দমকা বাতাসের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত মজবুত অবকাঠামোয় এই গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্যান্ডেলের উপরিভাগে বিশেষ কাপড় টানানোর কাজ গত তিন দিন ধরে চলছে এবং এটি সম্পন্ন হওয়ার পরই তোরণে নান্দনিক কাপড় লাগানোর মূল ধাপ শুরু হবে।

দিন-রাত এক করে মণ্ডপের রূপ দিচ্ছেন স্থানীয় কারিগররা। সার্বিক ডেকোরেশনের দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় বাবুল ডেকোরেটর অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মোহাম্মদ বাবুল মিয়া। তার সাথে কারুকাজে সহায়তা করছেন আইজুল ইসলাম এবং থার্মোকল নকশায় হাত লাগিয়েছেন অভিজিৎ রায়। এর পাশাপাশি প্রতিমা ও পারিপার্শ্বিক আবহ তৈরিতে নিবিড়ভাবে অংশ নিয়েছেন মালাকার দাদা। সুবিশাল এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সাথে বীরগঞ্জের জগদলেও আরেকটি পূজার আনুষঙ্গিক কার্যক্রম এই দলের মাধ্যমেই সমন্বয় করা হচ্ছে।

খোলামেলা চত্বরে দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। দেউলী রথবাজার সর্বজনীন পূজা মণ্ডপের সুবিশাল প্রাঙ্গণ থাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় বা চলাচলে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না। আগত দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ জোগাতে প্যান্ডেলের পাশেই সাজানো হচ্ছে লোকজ মেলা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা বা চরকি এবং হরেক রকমের গ্রামীণ দোকানপাট। সুষ্ঠু শৃঙ্খলা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে মণ্ডপের তিন পাশে রাখা হয়েছে পৃথক তিনটি নিরাপদ গ্যারেজ সুবিধা।

দূর-দূরান্ত থেকে মণ্ডপে আসার ক্ষেত্রে রয়েছে একাধিক সুবিধাজনক যাতায়াত রুট। বীরগঞ্জ, দিনাজপুর কিংবা রংপুর থেকে আগত দর্শনার্থীরা বটতলী হয়ে সোজা ১৪ কিলোমিটার পাকা রাস্তা দিয়ে মিনি গেট সংলগ্ন দেড় কিলোমিটার দূরত্ব পার হয়ে সহজেই মূল মণ্ডপে পৌঁছাতে পারবেন। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও দিক থেকে যারা আসবেন, তারা বাগেরহাট কিংবা হরিপুকুর হয়ে লস্করা মন্দিরের মিনি গেট দিয়ে সরাসরি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া খানসামা, কবিরাজহাট, তিনঠিঙ্গিয়া কিংবা খোচাবাড়ী ও পীরবাজারের দিক থেকেও রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সুগম পথ।

নান্দনিক রূপ দিতে গিয়ে আয়োজনের প্রাথমিক বাজেট দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। শুরুতে আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেমসহ আনুমানিক সার্বিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ লাখ টাকার মধ্যে। তবে মণ্ডপের আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যের ব্যাপকতার কারণে খরচ এখন অনেক বেড়ে গেছে। পূজা উদযাপন কমিটির হিসাব মতে, এ পর্যন্ত প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে এবং প্রয়োজনীয় সৌন্দর্যবর্ধন নিশ্চিত করতে বাজেট আরও বাড়ানো হচ্ছে। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়েই তাদের বিশেষ থিমের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে।