বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

মিরপুর ১০ নম্বরে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা গ্রেপ্তার ২৬

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

মিরপুর ১০ নম্বরে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা গ্রেপ্তার ২৬

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার হকার ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, টিয়ারশেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশ সদস্য এবং সংবাদকর্মীসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।

উত্তেজনার সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষুব্ধ হকাররা। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত অবৈধ দখল উচ্ছেদে নামে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্থানীয় হোপ মার্কেটের সামনের অংশে দোকানপাট সরানোর সময় উচ্ছেদকারী গাড়ির সাথে বিদ্যুতের তারের ঘর্ষণে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে বেশ কিছু মালামাল পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরপরই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পুলিশের সাথে হকারদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। 

একপর্যায়ে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং মিরপুর আইডিয়াল কলেজের সামনে ব্যবসায়ীরা ও গোলচত্বরে পুলিশ অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দায়িত্ব পালনকালে পেশাগত কাজে আসা একাধিক গণমাধ্যমকর্মীও হামলার শিকার হন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়ি ভাঙচুর ছাড়াও অপর চ্যানেলের প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং একটি দৈনিকের ফটোসাংবাদিক আহত হন। 

তবে হকারদের দাবি, কেবল ফুটপাত দখলমুক্ত করা নয়, বরং হোপ মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত চাঁদাবাজির পথ বন্ধ হওয়া নিয়ে প্রভাবশালী একটি পক্ষের ইন্ধনে এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে। বিপরীতে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে ওই এলাকার ১০২ জন হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিয়ে পুনর্বাসনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ের সমন্বয়হীনতা নিয়ে কথা বলেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরাও। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করেননি বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান দাবি করেন যে এই সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ পরিকল্পিত। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে এবং স্থানীয় প্রতিনিধিকে না জানিয়ে এমন অভিযান চালানোয় বিস্ময় প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না করে জনচলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।