অক্টোবর ১, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি ও কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হামিদ লতিফ ভূঁইয়া কামাল দাবি করেছেন তিনি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতেন। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিকালে তিনি এই দাবি করেন।
আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি জানান যে আসাদুজ্জামান খান আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও তিনি নিজে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই দুটি মামলা করেছিলেন। পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেও রাজনৈতিক তিক্ততা ছিল বলে আদালতে উল্লেখ করেন তিনি। লতিফ ভূঁইয়া দাবি করেন সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকায় তিনি কখনোই তার বাসভবনে যেতেন না। জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান।
এর আগে অন্য দুটি মামলায় জামিন পেলেও এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ আদালতে যুক্তি দেন যে আগের মামলাগুলোতে জামিন পেয়ে মুক্তির অপেক্ষায় থাকার সময় কারামুক্তি বিলম্বিত করতেই নতুন করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে ২০২৫ সালে এবং দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালে এসে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলো।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ আদালতে দাবি করেন যে লতিফ ভূঁইয়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব বা পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং জুলাই গণআন্দোলন দমনে অর্থ জোগান দিয়েছিলেন। তদন্তে ঘটনায় তার সুস্পষ্ট সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জোর দাবি জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে ভাটারা থানার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রদান করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে বারোটায় ভাটারা থানার একশ ফুট সড়ক এলাকা থেকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় তাদের ওপর লক্ষ্য করে হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। সেই সময় আহত আন্দোলনকারীদের উদ্ধার করতে গিয়ে এক ব্যক্তি বুক, ঠোঁট, গাল ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন