রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

শিশুদের সুরক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম

শিশুদের সুরক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি শিশুর মানসম্মত শিক্ষা, সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং একটি সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী বাস্তবমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি উল্লেখ করেন যে শিক্ষাঙ্গনের আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যপুস্তক ও পোশাক বিতরণের পাশাপাশি নিয়মিত সাধারণ শিক্ষার সাথে সমন্বয় ঘটিয়ে দ্রুত কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেলে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষার মানোন্নয়ন উপলক্ষে সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও দক্ষতামূলক করে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। নিজের শৈশবকালীন প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বিগত দিনগুলোতে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত বসার চেয়ার-বেঞ্চ কিংবা পাঠদানের মতো উপযুক্ত ভৌত অবকাঠামো ছিল না। 

তবে বর্তমান সময়ে সামগ্রিক বিদ্যালয় পরিবেশ, আধুনিক অবকাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। শিশুদের সঠিক মানসিক বিকাশে পরিবারের গভীর প্রভাবের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মায়েরা অপরিসীম স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে তাদের সন্তানদের বড় করে তোলেন। তাই শিশুদের দৈনন্দিন চলাফেরা নিবিড়ভাবে তদারকি করা, অসৎ সঙ্গ থেকে নিরাপদে দূরে রাখা এবং নিয়মিত পাঠচর্চায় সম্পৃক্ত রাখার ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকদের সচেতন ও সতর্ক দায়িত্ব পালন করতে হবে। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গিয়ে নিজের একটি আকস্মিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দেখতে পান সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে মোট উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ জন। এই ধরনের অসামঞ্জস্য দূর করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় আরও জোরালো প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদ্যালয় পর্যায়ে ব্যবহারিক কারিগরি প্রশিক্ষণ চালুর মাধ্যমে শিশুদের তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের পথ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তাদের স্বাবলম্বী করতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।