মে ১৮, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কীভাবে কার্যকর করা যাবে তা নিয়ে বর্তমানে নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা চলছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম এক মাসের মধ্যেই এই বিশেষ কল্যাণমুখী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন শুরু করেছে প্রশাসন। এই পরিবারকেন্দ্রিক উদ্যোগটি দেশের আর্থসামাজিক কাঠামোকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বাংলাদেশে এ ধরনের সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির অতীতের অভিজ্ঞতা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী আগের সামাজিক উদ্যোগগুলোর ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ উপকারভোগী দরিদ্র বা কোনো ধরনের ঝুঁকিতে ছিলেন না।
এর বিপরীতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ অতিদরিদ্র শ্রেণীর মানুষ ছিলেন এবং প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দরিদ্র পরিবার কোনো ধরনের সরকারি সুবিধাই পান না। বর্তমানে বয়স্ক বা বিধবা ভাতার পরিমাণ মাসে মাত্র ৭০০ টাকা।
ভাতার অংক অত্যন্ত কম হওয়ায় মাঠপর্যায়ে দারিদ্র্যবিমোচনের মূল লক্ষ্যটি আজ সফলভাবে অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। একই বিষয়ে দেশের ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৯৫টি পৃথক সামাজিক নিরাপত্তা স্কিম চালুর ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বাড়ছে।এই কারণে ফ্যামিলি কার্ড কীভাবে কার্যকর করা যাবে তা নিয়ে কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, উপকারভোগী নির্বাচনের ত্রুটিপূর্ণ প্রক্সি মিনস টেস্ট পদ্ধতির পরিবর্তে সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় তথ্য যাচাই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেসের আন্তঃসংযোগ থাকলে আবেদনকারীর প্রকৃত অবস্থা সহজেই জানা সম্ভব। সামাজিক সুরক্ষার পুরো অর্থ সরাসরি সরকারি রাজস্ব বাজেটের ওপর নির্ভর করায় বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ এই এক খাতেই চলে যাচ্ছে এবং জনগণের মাঝে এক ধরনের পরনির্ভরশীলতা তৈরি হচ্ছে।এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কর্মহীন শ্রমিকদের ভাতা ও বয়স্ক ভাতায় ধীরে ধীরে অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
এর পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম аয়ের পরিবারগুলোকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের বিপুল চিকিৎসা ব্যয় থেকে রক্ষা করতে সরাসরি স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থার আওতায় আনা আবশ্যক। ফ্যামিলি কার্ডকে সফল করতে ২০২৩ সালের সর্বজনীন ইউনিক আইডি ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। এটি চালু হলে জন্মনিবন্ধনের সময় থেকেই নাগরিকদের পারিবারিক পরিচয় বা ফ্যামিলি ট্রি নিশ্চিত করা সহজ হবে। ভুল ব্যক্তিকে ভাতা দেওয়া বন্ধ করতে এবং মাঠপর্যায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ কার্যকর ও জনগণের কাছে উন্মুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন