জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
কুমিল্লা-৪ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট খারিজের পর এবার শেষ ভরসা হিসেবে আপিল বিভাগে আবেদন করতে যাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে এই আবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে বলে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন নাকচ করে রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন। এর ফলে এই সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার এই রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা অবৈধ বলে রায় দেন।
শুনানিতে এই আসনের এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর আইনজীবীরা দাবি করেন যে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। আদালত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় রিটটি খারিজ করেন।উল্লেখ্য যে গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এক শুনানির মাধ্যমে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিল।
রিটার্নিং কর্মকর্তা শুরুতে তার মনোনয়ন বৈধ বললেও হাসনাত আব্দুল্লাহর করা আপিলের ভিত্তিতে ইসি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গেলেও সেখানে তিনি ব্যর্থ হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দেবীদ্বার এলাকায় জনপ্রিয় এই নেতার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেলে ভোটের মাঠের সমীকরণ বদলে যেতে পারে। বর্তমানে এই আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অন্যান্য প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক পেয়ে প্রচারণায় নেমেছেন।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির অন্যতম কাণ্ডারি এবং সাবেক সংসদ সদস্য। তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে তবে এই আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকবে না। দেবীদ্বারের ভোটাররা এখন উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে আছেন আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন