ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন যে আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে তরুণ নেতা নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভার সদস্য করা হবে। রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বাড্ডায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
জামায়াত আমির অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন যে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি ইনসাফের বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায় অর্জিত হয় তবে সেই সরকারে নাহিদ ইসলামকে দেশের একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখা যাবে। তার এই ঘোষণা বাড্ডা এলাকার সাধারণ ভোটার এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জনসভায় যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশের প্রকৃত কারিগর। তিনি নাহিদ ইসলামকে এই আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন যে এই প্রজন্মের মেধাবী তরুণরাই হবে আগামী দিনের ‘বাংলাদেশ’ নামক জাহাজের ক্যাপ্টেন।
জামায়াত আমিরের ভাষায় আমরা প্রবীণরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হিসেবে থাকব এবং তরুণদের দিকনির্দেশনা দেব। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে নাহিদ ইসলামের মতো সাহসী ও দেশপ্রেমিক তরুণরাই বাংলাদেশকে একটি সঠিক ও সমৃদ্ধ গন্তব্যে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। সম্মিলিতভাবে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র গঠনের এই আহ্বানে উপস্থিত জনতা বিপুল হর্ষধ্বনির মাধ্যমে তাকে সমর্থন জানায়।বক্তব্যের অন্য অংশে ডা. শফিকুর রহমান বড় রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক বৈপরীত্য নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
বিএনপির নাম সরাসরি না নিলেও তাদের দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন যে একদিকে মুখে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার কথা বলা হচ্ছে অথচ অন্যদিকে দলে দলে ঋণখেলাপি ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের নির্বাচনী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে ঋণখেলাপিদের আশ্রয় দিয়ে কীভাবে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। জামায়াত আমিরের মতে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সাধারণ মানুষ এখন প্রস্তুত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ এসকল অসাধু ব্যক্তিদের লাল কার্ড দেখিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও ইনসাফভিত্তিক সংসদ উপহার দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন