ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এই শপথকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দলটির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা। দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি তাদের প্রথম মন্ত্রিসভায় কাদের স্থান দিচ্ছে এবং সেখানে নতুন ও প্রবীণদের সমন্বয় কেমন হবে তা নিয়ে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি দক্ষ ও জনমুখী প্রশাসন উপহার দিতে চান যেখানে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যের মেধার মূল্যায়ন করা হবে।
গুলশান কার্যালয়ে টানা কয়েকদিন ধরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এসব বৈঠকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে অর্থ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। বিশেষ করে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে দলটি।
এবারের মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু নতুন মুখ এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি নেতৃত্ব মনে করছে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয় বরং প্রশাসনিক দক্ষতা ও আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারবেন এমন ব্যক্তিদেরই সরকারে আনা প্রয়োজন।সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় তরুণ প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। এদের মধ্যে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শামা ওবায়েদ এবং আমিনুল ইসলামের মতো নেতাদের নাম শোনা যাচ্ছে।
পাশাপাশি ড. হুমায়ুন কবির, ড. মাহদী আমিন এবং ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীমকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন তরুণদের এই অংশগ্রহণ দলের আগামীর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং বিগত দিনের আন্দোলনে নির্যাতিত নেতাদের একটি বড় অংশকে মূল্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে দলীয় হাইকমান্ডের।
অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সালাহউদ্দিন আহমদের মতো ঝানু রাজনীতিকরা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতুহল রয়েছে। তাকে রাষ্ট্রপতি বা উপরাষ্ট্রপতির মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতো ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক জ্ঞানসম্পন্ন নেতাদের অর্থ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ে ভাবা হচ্ছে। সিনিয়রদের এই অভিজ্ঞতা নতুন সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদেরও এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে। জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জোনায়েদ সাকি, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং নুরুল হক নূরুর মতো নেতাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। জোটের শরিকদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। তবে শেষ পর্যন্ত কারা শপথ নিচ্ছেন তা জানতে মঙ্গলবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বিতর্কিত কাউকে মন্ত্রিসভায় না রেখে একটি স্বচ্ছ ও আস্থাশীল সরকার গঠনই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন