বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে আইনগত অসঙ্গতি রয়েছে: শিশির মনির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে আইনগত অসঙ্গতি রয়েছে: শিশির মনির

ছবি-দিনাজপুর টিভি

গুম ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল বিষয়ে সরকারের দেওয়া আইনি ব্যাখ্যাকে ভুল এবং অসংগতিপূর্ণ দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। সোমবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। 

সম্প্রতি আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চিফ হুইপের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এতে দলটির সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনও বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, গুম অধ্যাদেশে গুমের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে যা রয়েছে, সরকার এই দুটিকে এক বলে যে দাবি করছে তা আইনগতভাবে সঠিক নয়। 

তিনি বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গুমকে ‘ক্রাইম অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়। এটি বিচারযোগ্য হতে হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধকে অবশ্যই ব্যাপক এবং সুশৃঙ্খল বা ‘সিস্টেমেটিক’ হতে হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে আলাদাভাবে গুম করার ঘটনা এই ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় পড়ে না। ফলে গুম অধ্যাদেশ ও ট্রাইব্যুনাল আইনের সংজ্ঞা এক নয় এবং একটির বিকল্প অন্যটি হতে পারে না।

মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দাবি করেছে যে এই আইনে তদন্তের সময়সীমা বা ক্ষতিপূরণের বিধান নেই, যা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোতে পরিষ্কারভাবে ৩০ দিনের সময়সীমা এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া বিচারকদের শোকজ নোটিশ দেওয়ার বিষয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, যে আইনের ভিত্তিতে এই শোকজ করা হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছে। 

ফলে ওই আইনের দোহাই দিয়ে শোকজ করা আইনগতভাবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ব্যাংক রেজুল্যুশন অধ্যাদেশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, নতুন ধারা যোগ করে ব্যাংক লুটপাটের সাথে জড়িত আগের মালিকদের হাতে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংসদের প্রথম অধিবেশনে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। 

সংবিধানের ৯৩(ডি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমা শেষে দেখা যায় যে ১১৭টি অধ্যাদেশ পাস হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৭টি রহিত করা হয়েছে এবং ১৬টি অধ্যাদেশ ল্যাপস বা বাতিল হয়ে গেছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথক সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলো ল্যাপস হয়ে যাওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিশেষ কমিটিতে মতবিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি অলিখিত চুক্তি থাকলেও সরকারপক্ষ তা মানেনি। 

এমনকি বিল পাসের মাত্র ১০ মিনিট আগে সংসদ সদস্যদের কাছে কপির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ডাকাতদের অর্থ ফেরত না নিয়ে কেবল একটি অঙ্গীকারনামার বিনিময়ে ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং সংসদীয় কার্যপ্রণালীতে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় তারা দুই দফা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন।

জুলাই জাদুঘর বিলের বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই বিলের বিষয়ে বিরোধী দলের সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং মন্ত্রীকে এককভাবে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদেই মূলত তারা প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কামাল হোসাইন এমপি, জয়নুল আবেদীন এমপি, জাহিদুর রহমান এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।