এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০১:০২ পিএম
গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে দেশে নতুন ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছে এবং আগামীর এই ফ্যাসিবাদ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জেলা আমির সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই শঙ্কার কথা জানান।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে বিচারক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য একটি নিরপেক্ষ বডি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অধ্যাদেশের মাধ্যমে তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমির মনে করেন, এতে করে বিচার বিভাগে দলীয় প্রভাব বিস্তারের পুরনো সুযোগই বহাল রাখা হলো। দলীয়করণের এই ধারাবাহিকতায় অতীতে বিচারপতি খায়রুল হক বা শামসুদ্দিন মানিকের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিত্বরা তৈরি হয়েছেন এবং দেশবাসী এখনো তার কুফল ভোগ করছে।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের কড়া সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি বা যুদ্ধের দোহাই দিয়ে দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্যের প্রয়োজন ছিল। অথচ সরকার বাস্তবতাকে অস্বীকার করে মিথ্যাচার করছে। একদিকে বলা হচ্ছে তেলের কোনো অভাব নেই, অন্যদিকে জনগণ প্রতিদিন দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে। চোরাই পথে তেল বিক্রির যে তথ্য মিডিয়ায় আসছে, তার দায় সরকার এড়াতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি মহা নৈরাজ্য হিসেবে অভিহিত করেন। সিভিল প্রশাসনের দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের ওএসডি করে রাখা অথবা গুরুত্বহীন পদে বদলি করার মাধ্যমে জনগণের সেবাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এমনকি ক্রীড়াঙ্গনেও পারিবারিক ও দলীয় প্রভাবের কারণে ক্রিকেট বোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের পথে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ বা দুর্নীতি দমন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকার মুখে বিচারকদের স্বাধীন দাবি করলেও বাস্তবে তাদের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে। সম্প্রতি ২৮ জন বিচারককে শোকজ করার ঘটনাকে তিনি বিচার বিভাগের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন। একই সাথে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্ড বিতরণে দলীয়করণ ও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সমাজের সৎ মানুষদের কণ্ঠরোধ করে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
সরকারকে ভুলের পথ পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট বা গণভোটের রায়কে সম্মান না জানালে ভবিষ্যতে এর পরিণতি শুভ হবে না। দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে, তবে জনগণের ওপর অন্যায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সম্মেলনে সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আমিরেরাও উপস্থিত ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন