শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা: ইসলামের মহান সৌন্দর্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা: ইসলামের মহান সৌন্দর্য

ইসলামে শক্তি ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা প্রদর্শনকে ইসলামের একটি মহান সৌন্দর্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহান আল্লাহপাক নিজেই ক্ষমাশীল এবং তিনি পৃথিবীতে ক্ষমাকারীদের ভালোবাসেন। মানুষের অন্যতম প্রধান মহৎ গুণ হলো ক্ষমা করতে পারা, বিশেষ করে যখন বদলা নেওয়ার শক্তি ও ক্ষমতা হাতের মুঠোয় থাকে।

পবিত্র কোরআনে মুমিনদের এই গুণ অর্জনের তাগিদ দিয়ে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘ক্ষমা করো, এটিই হলো তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী বিষয়।’

(সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৩৭)। ক্ষমা করাকে মুত্তাকিদের কাজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেমন আল্লাহপাক মুত্তাকিদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘তারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং লোকদের ক্ষমা করে।’ (সুরা ইমরান, আয়াত ১৩৪)।

ঐতিহাসিকভাবে এর উজ্জ্বলতম নজির স্থাপন করেছিলেন শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। মক্কাবাসীদের কাছে এত নিপীড়ন-নির্যাতন ও লাঞ্ছনা ভোগের পরও মক্কা বিজয়ের সময় নবীজি (সা.) যে অপূর্ব ক্ষমা প্রদর্শন করেছিলেন তার নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি তার জানের দুশমনদের সঙ্গেও উদার ব্যবহার করে বলেছিলেন, ‘কোনো গঞ্জনা নেই তোমাদের ওপর। তোমরা সবাই মুক্ত।’

এমনকি মক্কায় প্রবেশের আগে জনৈক আনসারি সাহাবি অতিউৎসাহে যখন বলে ফেলেছিলেন, ‘আজ হলো হত্যা ও নিধনের দিন’ তখন নবীজি (সা.) তা শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আজ তো অনুকম্পার দিন’ এবং ওই সাহাবিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেন। এছাড়া তায়েফবাসীদের বর্বর আচরণের মুখেও যখন আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে তাদের ধ্বংস করে দিতে চাইলেন, নবীজি (সা.) বলেছিলেন, ‘না, এরা তো বোঝে না, জানে না। এরা না হোক, এদের বংশ থেকে কেউ তো হেদায়েত গ্রহণ করতে পারে।’

পবিত্র কোরআন মাজিদে বারবার ক্ষমার কথা বলা হয়েছে। অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘ক্ষমাকেই গ্রহণ করো, ভালো বিষয়ে নির্দেশ দাও, মূর্খদের আচরণ উপেক্ষা করো।’ (সুরা আল আরাফ, আয়াত ১৯৯)। এমনকি মন্দকে 'মন্দ' দিয়ে নয় বরং মন্দের বদলে উত্তম ব্যবহারের তাগিদ করা হয়েছে, কারণ এর উপকারিতা অসীম। আল্লাহ বলেন, ‘মন্দ ও ভালো এক বরাবর নয়। উত্তম পন্থা দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করো, তাহলে তোমার ও তার মধ্যে যে শত্রুতা আছে তা অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বে পরিণত হবে।

মহানবী (সা.) বলেছেন, যে দ্বন্দ্ব-দ্বৈরথে অন্যজনকে পরাভূত করল সে শক্তিশালী পালোয়ান নয় বরং পালোয়ান তো হলো, ক্রোধের সময়ও নিজকে যে নিয়ন্ত্রিত রাখতে পারে। (ইমাম বুখারি, হাদিস ৫৭৬৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘ক্ষমা মানুষের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করে।’ (ইমাম মুসলিম, হাদিস ২৫৮৮)। অধীনদের প্রতি ক্ষমাশীল হওয়ার কথা বলতে গিয়ে তিনি দিনে ৭০ বার হলেও ক্ষমা করতে বলেছেন।