নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৫:৩৭ পিএম
আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ইবাদতের জন্য, যার শ্রেষ্ঠতম রূপ হলো নামাজ। রাসুল (সা.) নামাজকে 'দ্বীনের স্তম্ভ' এবং 'চোখের স্নিগ্ধতা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে' (সুরা আনকাবুত : ৪৫)।
তাই নিজেকে প্রকৃত নামাজি হিসেবে গড়ে তুলতে নামাজে একাগ্রতা অবলম্বন করা জরুরি।কিন্তু অনেক নামাজি একটি সাধারণ সমস্যায় ভুগে থাকেন: মাঝেমধ্যেই নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। আদায়কৃত নামাজ তিন রাকাত হলো না চার রাকাত হলো, তা মনে করতে পারেন না।
এ অবস্থায় কীভাবে নামাজ আদায় করতে হবে, ফুক্বাহায়ে কেরাম এবং হাদিসের আলোকে তা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:ফুক্বাহায়ে কেরাম (ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞরা) এবং প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এই সমস্যার দুটি সমাধান দিয়েছেন:
১. যখন প্রবল ধারণা তৈরি হয়:
যদি সন্দেহ তৈরি হয়, তবে চিন্তা করে দেখুন, আপনার মন কোন সংখ্যার পক্ষে প্রবলভাবে সায় দিচ্ছে (যেমন: তিন রাকাত নাকি চার রাকাত, এর মধ্যে তিন রাকাতের পক্ষে বেশি মনে হচ্ছে)।
করণীয়: যেটির পক্ষে প্রবল ধারণা হয়, সেটির ওপর ভিত্তি করে বাকি নামাজ পূর্ণ করবেন এবং সিজদা সাহু (ভুলে যাওয়ার সেজদা) দিয়ে নামাজ শেষ করবেন।
২ যখন প্রবল ধারণা না হয় (সমান সন্দেহ):
যদি রাকাতসংখ্যার ব্যাপারে কোনো প্রবল ধারণা না হয়, অর্থাৎ দুটোই সমান সমান মনে হয় (যেমন: তিনের পক্ষে মন টানছে আবার চারের পক্ষেও), তবে এই অবস্থায় কম সংখ্যাটা ধরে নেবেন।
করণীয়: কম সংখ্যা ধরে সে হিসেবে বাকি নামাজ পূর্ণ করবেন এবং অবশ্যই সালাম ফেরানোর আগে সিজদা সাহু দিয়ে নামাজ শেষ করবেন।
হাদিস শরিফে এই বিধানের উল্লেখ পাওয়া যায়। হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন:তোমাদের কারো যদি নামাজের মধ্যে সন্দেহ হয়, ফলে সে জানে না যে এক রাকাত পড়ল না কি দুই রাকাত, তাহলে সে যেন এক রাকাত ধরে নিয়ে নামাজ পড়ে। আর যদি দুই রাকাত পড়ল না তিন রাকাত, তা না জানে তাহলে যেন দুই রাকাত ধরে নামাজ পড়ে এবং (এসব ক্ষেত্রে) সালাম ফেরানোর পূর্বে দুটি সিজদা আদায় করে (অর্থাৎ সিজদা সাহু করে)।"


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন