শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

খলিফা হয়ে প্রথম ভাষণে যা বলেছিলেন আবু বকর (রা.)

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

খলিফা হয়ে প্রথম ভাষণে যা বলেছিলেন আবু বকর (রা.)

প্রথম খলিফার ভাষণ

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়। সেই কঠিন সময়ে ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে হজরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাম যখন চূড়ান্ত হয় তখন ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। 

যদিও শুরুতে আবু বকর রা. নিজে খলিফা হিসেবে হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. ও হজরত আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ রা. এর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু তারা উভয়েই অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এই বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং আবু বকর রা. কে খলিফা হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান। 

হজরত আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ রা. অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে রাসুলুল্লাহর পরে মুসলমানদের মধ্যে কারো জন্য আবু বকর রা. এর উপরে স্থান পাওয়া সমীচীন নয়। 

কারণ তিনি ছিলেন সেই মহান ব্যক্তি যিনি হিজরতের কঠিন সময়ে সাওর গুহায় নবীজির একনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন। পবিত্র কোরআনেও তাকে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়েছে। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ সা. যখন অসুস্থ ছিলেন তখন তিনি আবু বকর রা. কেই নামাজের ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যা ছিল তার নেতৃত্বের প্রতি এক বড় ইঙ্গিত। হজরত ওমর রা. এর প্রস্তাব এবং উপস্থিত সকলের সম্মতিতে আবু বকর রা. খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হন এবং একে একে সকল সাহাবী তার হাতে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। 

খলিফা হওয়ার পর তিনি যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন তা আজ চৌদ্দশ বছর পরেও রাষ্ট্র পরিচালকদের জন্য এক অনন্য আদর্শ হয়ে আছে। তিনি তার প্রথম ভাষণে জনতার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অথচ তিনি তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নয়। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে যদি তিনি সঠিক পথে থাকেন তবে যেন সবাই তাকে সাহায্য করে আর যদি তিনি ভুল পথে পরিচালিত হন তবে যেন তাকে সংশোধন করে দেওয়া হয় তার ভাষণের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ ছিল যখন তিনি বললেন। 

সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তি তার কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী যতক্ষণ না তিনি তার অধিকার আদায় করে দিতে পারেন। আর সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি তার কাছে দুর্বল যতক্ষণ না তিনি তার কাছ থেকে পাওনা হক আদায় করে নিতে পারেন। ইসলামের এই মহান খলিফা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছিলেন যে যতক্ষণ তিনি আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ মেনে চলবেন ততক্ষণই যেন মানুষ তাকে অনুসরণ করে নতুবা তার আনুগত্য করার কোনো প্রয়োজন নেই। এই ভাষণটি কেবল একটি বক্তব্য ছিল না বরং এটি ছিল একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার। আধুনিক যুগেও আবু বকর রা. এর এই প্রশাসনিক দর্শন ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার এক বড় উদাহরণ হিসেবে কাজ করে।