এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
হজ ও ওমরাহ পালনের সময় নারীদের পর্দা করা বাধ্যতামূলক কি না—এ নিয়ে মুসলিম সমাজে প্রায়ই নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা দেয়। ইসলামি শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, হজের সফরেও নারীদের শালীনতা ও পর্দা বজায় রাখা অপরিহার্য। তবে ‘ইহরাম’ পরিহিত অবস্থায় পর্দার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নিয়ম কার্যকর হয়, যা অনেক সময় ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করে।
আলেমদের মতে, ইহরাম অবস্থায় সরাসরি মুখে লাগানো কাপড় বা নেকাব ব্যবহারের পদ্ধতিতে ভিন্নতা আসলেও পর্দার মূল বিধান পুরোপুরি বহাল থাকে।
ইসলামিক স্কলারদের মতে, হজে বা ওমরায় নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রং বা নকশার পোশাক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। যেকোনো শালীন, ঢিলেঢালা ও শরীর আবৃত করে এমন পোশাক পরে নারীরা হজ সম্পাদন করতে পারবেন। মূল লক্ষ্য হলো এমন পোশাক পরিধান করা যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে না এবং হজের পবিত্রতা বজায় রাখে।
তবে ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, এ সময় সরাসরি চেহারা স্পর্শ করে থাকে এমন কোনো নেকাব বা হাতমোজা (গ্লাভস) ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এই বিশেষ বিধিনিষেধের কারণেই হজের সময় নারীদের মুখমণ্ডল খোলা থাকতে দেখা যায়।তবে মুখমণ্ডল খোলা রাখার এই বিধানের অর্থ এই নয় যে, নারীরা সম্পূর্ণ পর্দাহীন থাকবেন। ইসলামি আইনজ্ঞদের মতে, ইহরাম অবস্থায় গায়রে মাহরাম বা অপরিচিত পুরুষের সামনে এলে নারীরা তাঁদের মাথার চাদর বা ওড়না দিয়ে মুখ আড়াল করতে পারবেন, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন সেই কাপড় সরাসরি মুখ স্পর্শ না করে।
আধুনিক সময়ে এ জন্য অনেক নারী হজযাত্রী মাথার ওপর ক্যাপ বা বিশেষ ধরণের ফ্রেম ব্যবহার করেন, যাতে ওপর থেকে চাদর ঝুলিয়ে দিলে তা চেহারার সামনে পর্দার কাজ করে কিন্তু চামড়ায় স্পর্শ লাগে না।হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনাতেও হজের সময় সাহাবী নারীদের এই বিশেষ পর্দা পদ্ধতির প্রমাণ পাওয়া যায়। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে যে, তাঁরা যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, তখন কোনো কাফেলা বা পথচারী তাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা মাথার চাদর সামনে ঝুলিয়ে মুখ ঢেকে নিতেন। পথচারীরা চলে গেলে তাঁরা পুনরায় মুখ খুলে দিতেন।
এটি প্রমাণ করে যে, হজের ময়দানেও নারীদের পর্দা বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বরং পরিস্থিতির প্রয়োজনে কৌশলী পদ্ধতিতে পর্দা রক্ষা করা কাম্য।সুতরাং, হজে নারীদের পর্দা উঠে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। হজের সফরেও পরপুরুষের দৃষ্টি থেকে নিজেকে আড়াল করা এবং শালীনতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ। ইহরামের কারণে কেবল সরাসরি নেকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা হজের এক বিশেষ আধ্যাত্মিক নির্দশনা। তবে বিকল্প উপায়ে চেহারা আড়াল করা এবং পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক হিসেবেই বিবেচিত হয়। সঠিক নিয়মের অভাব বা ভুল ধারণার কারণে যাতে হজের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন