মে ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
জিলহজ মাস শুরু হলেই পবিত্র মক্কা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে তাকবির ও তালবিয়ার সুমধুর ধ্বনি শোনা যায়। মসজিদ, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে জনসমাগমস্থলেও ধ্বনিত হয় তাকবিরে তাশরিক। এটি মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের গভীর বহিঃপ্রকাশ। আরব বিশ্বসহ বিভিন্ন দেশে জিলহজের শুরু থেকেই এই তাকবির বাজানো হয়।
হজযাত্রীদের কণ্ঠে উচ্চারিত তালবিয়া গোটা মুসলিম উম্মাহকে এক সুতোয় বাঁধে।আইয়ামে তাশরিকের পাঁচ দিনে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।
হিজরি বছরের হিসাব অনুযায়ী ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর এটি পড়তে হয়। এই তাকবির হলো আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। এর অর্থ আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
হজের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিনামুখী হাজিদের কণ্ঠে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিত হয়। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর দরবারে নিজের উপস্থিতির ঘোষণা দেন। তালবিয়ার উচ্চারণ হলো লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়ালমুলক, লা শারিকা লাক। এর অর্থ হলো আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি উপস্থিত। আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির এবং আপনার কোনো অংশীদার নেই। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনারই।
আরাফাতের ময়দান, মিনা ও মুজদালিফায় হাজিরা উচ্চস্বরে এই তালবিয়া পাঠ করেন, তবে নারীরা নিচু স্বরে পড়েন। হজের সফরে রাসুলুল্লাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম তালবিয়া ও তাকবির উভয়ই পাঠ করেছেন। হজ ও ওমরার এক রোকন থেকে অন্য রোকনে যাওয়ার পথে, উঁচু স্থানে আরোহন বা নিচে নামার সময় এটি পড়া সুন্নত। এমনকি চলাফেরা, বিশ্রাম বা ফরজ-নফল নামাজের পরও বেশি বেশি তালবিয়া ও তাকবির পাঠ করা একটি ফজিলতপূর্ণ আমল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন