শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

গোল করিয়েও পরবর্তী ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন নেইমার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১১:১৯ এএম

গোল করিয়েও পরবর্তী ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন নেইমার

নিষেধাজ্ঞায় নেইমার

সান্তোসের জার্সিতে মাঠে ফিরে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখালেও এক অনাকাঙ্ক্ষিত হলুদ কার্ডের কারণে পরবর্তী ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে রেমোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে দলের দুটি গোলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রাখেন তিনি। তবে ম্যাচের শেষ দিকে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখায় আগামী রোববার ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে হাইপ্রোফাইল ম্যাচে ডাগআউটে বসে থাকতে হবে তাকে। 

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তির নজর কাড়ার যখন মোক্ষম সুযোগ ছিল, ঠিক তখনই এই নিষেধাজ্ঞা নেইমারের জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেইমার ছিলেন দারুণ ছন্দে। ভিলা বেলমিরোয় অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ের ৪০ মিনিটে সান্তোস মিডফিল্ডার থাসিয়ানোর গোলের পেছনের মূল কারিগর ছিলেন তিনিই। ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক লবে বল ভাসিয়ে রেমোর বক্সে ফেলেন এই ফরোয়ার্ড, যা থেকে লিড পায় সান্তোস।

এরপর ৮২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে এক অসাধারণ ডিফেন্সচেরা পাস দেন তিনি। গঞ্জালো এসকোবার সেই বল ধরে ময়জেসকে দিলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। পুরো সময় মাঠে থেকে নেইমার প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে তিনি পূর্ণ ফিটনেসের পথেই আছেন। উল্লেখ্য যে, জাতীয় দলে ফেরার জন্য কোচ আনচেলত্তি তাকে সান্তোসের হয়ে নিয়মিত খেলার শর্ত দিয়েছিলেন।তবে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। রেমোর ডিয়েগো হার্নান্দেজ পেছন থেকে নেইমারকে কড়া ফাউল করলে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। 

প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের দিকে তেড়ে গিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়লে রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইও তাকে হলুদ কার্ড দেখান। এটি চলতি আসরে তার তৃতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারবেন না। মাঠ ছাড়ার সময় রেফারির ওপর নেইমারের ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তকে অন্যায় বলে অভিহিত করেন এবং রেফারির বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তোলেন। নেইমারের দাবি, তাকে বারবার ফাউল করা হলেও রেফারি সুরক্ষা না দিয়ে উল্টো তাকেই কার্ড দেখিয়েছেন।

এই নিষেধাজ্ঞা কেবল একটি ম্যাচ মিস করাই নয়, বরং নেইমারের আসন্ন বিশ্বকাপ মিশনের সমীকরণকেও জটিল করে তুলেছে। ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ২০ দলের তালিকায় ১৩তম স্থানে থাকা সান্তোসের জন্য পরের ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফ্ল্যামেঙ্গোর মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো খেলে আনচেলত্তির গুডবুকে নাম তোলার সুযোগ ছিল তার সামনে। 

রেমোর সমর্থকরা গ্যালারি থেকে তাকে দুয়ো দিয়ে বলছিলেন যে তিনি এবার বিশ্বকাপে যাচ্ছেন না। সমর্থকদের এই খোঁচা এবং মাঠের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নেইমার কীভাবে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বকাপের আগে ফিটনেস প্রমাণের জন্য নেইমারের হাতে এখন খুব বেশি সময় নেই।