শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’—লামিন ইয়ামাল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’—লামিন ইয়ামাল

প্রতিবাদে সরব লামিন ইয়ামাল

স্প্যানিশ ফুটবলে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মিশরের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে দর্শকদের আপত্তিকর আচরণের প্রতিবাদে বার্সেলোনার তারকা ফুটবলার লামিন ইয়ামাল নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন যে তিনি একজন মুসলিম এবং এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। 

আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে গ্যালারি থেকে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান শোনা যায় যা পুরো ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। গ্যালারিতে বসে থাকা একদল দর্শক মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিদ্রূপাত্মক গান গাওয়ার প্রতিবাদে ইয়ামাল তাঁর এই সাহসী অবস্থান তুলে ধরেন।

লামিন ইয়ামাল তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে স্টেডিয়ামে ‘তুমি যদি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। তিনি জানেন এগুলো প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এই ভাষা তাঁর কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক মনে হয়েছে। 

এই ঘটনার পর স্পেনের ফুটবল অঙ্গনে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। দেশটির সরকার ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফাও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে স্পেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক তাঁর প্রিয় শিষ্যের এই সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। লা লিগার পরবর্তী ম্যাচের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক বলেন যে ফুটবল মানেই সহাবস্থান এবং জাতি বা ধর্ম নির্বিশেষে সবার একে অপরকে সম্মান করা উচিত। তিনি ইয়ামালের বিবৃতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন যে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষের কোনো স্থান ফুটবলে নেই। পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং এখন ফুটবল থেকে আমরা কী চাই তা নির্ধারণ করার উপযুক্ত সময় বলেও মন্তব্য করেন এই কোচ। 

ফ্লিকের পাশাপাশি বার্সেলোনা ক্লাবের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।রাষ্ট্রীয়ভাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন যে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের অসভ্য আচরণের কারণে পুরো স্পেন কলঙ্কিত হতে পারে না। 

স্পেন একটি বহুত্ববাদী ও সহনশীল দেশ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে এ ধরনের অসহিষ্ণুতার কোনো জায়গা নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ফিফার তদন্তে যদি বড় কোনো গাফিলতি ধরা পড়ে তবে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনকে বড় অংকের জরিমানা বা গ্যালারি নিষিদ্ধের মতো শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।