এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
চব্বিশের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের সময় রহস্যময় নীরবতা পালন করায় ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সেই সময় দেশের ক্রান্তিলগ্নে তাঁর অবস্থান নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় পর অবশেষে মুখ খুলেছেন এক সময়ের এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
সম্প্রতি দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের মুখোমুখি হয়ে জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানোদের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। সাকিব জানান যে যেকোনো মৃত্যুই অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁর মতে প্রতিটি জীবনের আলাদা মূল্য রয়েছে এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সময় ঘটে যাওয়া সেসব প্রাণহানি কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।
সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান নিহতদের স্মরণে সহানুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী প্রতিটি ঘটনার পেছনে একটি সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন যাতে প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করা যায়।
তবে একই সঙ্গে তিনি একটি আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে কাউকে যেন অন্যায়ভাবে কোনো মামলায় ফাঁসানো না হয়। মাঠের ক্রিকেটে ফেরার লড়াই আর আইনি জটিলতার মধ্যে সাকিবের এমন পর্যবেক্ষণ এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে ছিল তখন সাকিব কানাডায় একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে ব্যস্ত ছিলেন।
দেশের ওই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তাঁর নীরব থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। আন্দোলনের পর রাজধানীর আদাবর থানায় শহীদ রুবেলের বাবা সাকিবকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া শেয়ারবাজার কারসাজি, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এসব আইনি মারপ্যাঁচের কারণেই ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে তিনি আর স্বদেশে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে থেকেই তাঁর অবস্থান ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন