শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

ইউরোপে প্রথম ফুটবল ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

ইউরোপে প্রথম ফুটবল ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ খেলতে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামী ৫ জুন ইউরোপীয় দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীরা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সফরের সূচি ঘোষণা করেছে। 

বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে বাংলাদেশ দল ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেললেও এবারই প্রথম তাদের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা হবে জামালদের।

ফুটবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ দল এর আগে কেবল একবারই ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। ২০০১ সালে ভারতের কোচিতে অনুষ্ঠিত নেহরু কাপে বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। তবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়া সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। 

তখনকার কোচ জর্জ কোটানের অধীনে সেই ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের ফুটবলে এক বড় ঘটনা। তবে দীর্ঘ ২৫ বছর পর এবারই প্রথম ইউরোপের কোনো মাঠে সরাসরি খেলতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশের পাশাপাশি সান মারিনো দলের জন্যও এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। তারাও তাদের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম এশিয়ার কোনো দেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে। 

যদিও সান মারিনো ইউরোপের দল, তবে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমানে তারা ফিফা তালিকার একেবারে তলানিতে তথা ২১১ নম্বর স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় এই ম্যাচটিকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছে বাফুফে ও ফুটবল বিশ্লেষকরা।

বাফুফে এই সফরটিকে অত্যন্ত ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে ম্যাচটি কোন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এবং স্থানীয় সময় কখন শুরু হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভেন্যু এবং সময়ের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে অবহিত করা হবে। ইউরোপের মাঠে এই সফর বাংলাদেশের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং বৈশ্বিক ফুটবলে লাল-সবুজ পতাকাকে আরও পরিচিত করে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের ফুটবল ভক্তরাও এখন মুখিয়ে আছেন ৫ জুনের সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য।