বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হলান্ডদের ভাইরাল উদযাপন ‘ভাইকিং রো’র মাধ্যমে কী বুঝানো হয়?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৩, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

হলান্ডদের ভাইরাল উদযাপন ‘ভাইকিং রো’র মাধ্যমে কী বুঝানো হয়?

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সঙ্গে অত্যন্ত কঠিন গ্রুপ থেকে টানা দুই ম্যাচ জিতে প্রথমবার শেষ ৩২ তথা নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইউরোপের উদীয়মান পরাশক্তি নরওয়ে। বাঁচা-মরার ঐতিহাসিক ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠের ভেতরেই নিজেদের বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উৎসবের মাধ্যমে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করে নিয়েছে আরলিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের দল।দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরেই এমন অনবদ্য সাফল্যে এখন ভাসছে পুরো নরওয়ে।

বিশ্বকাপের মূল আসরে দলের এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর টুর্নামেন্টের আয়োজক শহরগুলোতে হাজার হাজার নরওয়েজিয়ান সমর্থক জড়ো হয়ে এই অনন্য উদযাপনে মেতে উঠছেন। এই বিশেষ উদযাপনে খেলোয়াড়রা মাঠের ওপর সারিবদ্ধভাবে বসে প্রাচীন ভাইকিং যুদ্ধজাহাজের মতো একটি সমন্বিত ফরমেশন তৈরি করেন এবং দুই হাত দিয়ে বৈঠা চালিয়ে তা এগিয়ে নেয়ার ভঙ্গি প্রদর্শন করেন। 

গত ম্যাচে জয়ের পর দলের অধিনায়ক ও প্রধান মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড ছিলেন এই উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে, যিনি মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সজোরে ড্রাম বাজিয়ে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে এক রণধ্বনি প্রতিধ্বনিত করছিলেন। গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার সমর্থকও খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছন্দময় ভঙ্গিতে এই দাঁড় টানার ভঙ্গি অনুকরণ করেন, যা বিশ্ব ফুটবলের নতুন ফ্যান কালচারে রূপ নিয়েছে।

এই বিচিত্র উদযাপনের মাধ্যমে মূলত নরওয়ের সমৃদ্ধ সামুদ্রিক ইতিহাস, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং দলগত একতা ও শক্তির প্রতীক ফুটিয়ে তোলা হয়। অতীতে ৮ম থেকে ১১শ শতাব্দী পর্যন্ত সমুদ্রপথে দূরপাল্লার যুদ্ধ অভিযানের জন্য বিশ্বজুড়ে কুখ্যাত ও বিখ্যাত ছিল এই ভাইকিং যোদ্ধারা। প্রাচীনকালে তারা যখন পাল গুটিয়ে তাদের দীর্ঘ যুদ্ধজাহাজ নিয়ে তীরের দিকে আসত, তখন যুদ্ধের ঠিক আগের মুহূর্তে সবাই মিলে একসঙ্গে প্রচণ্ড শক্তিতে দাঁড় টানত। মাঠের এই সমন্বিত উদযাপনটি ২০১৬ সালের ইউরো কাপে আইসল্যান্ডের বিখ্যাত থান্ডার ক্লাপসের মতোই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।