জুন ৩০, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
গাণিতিক মডেল ও নিখুঁত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ফুটবল বিশ্বকাপের আগাম ফলাফল অনুমান করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন জার্মান গবেষক জোয়াতিম ক্লেমেন্ট। এবারের আসরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শেষ বত্রিশের পর্বেই এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের কাছে হেরে বিদায় নেবে বলে তার একটি গাণিতিক পূর্বাভাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছিল। তবে মাঠের বাস্তবতায় তার সেই বহুল আলোচিত ভবিষ্যদ্বাণী সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা।
কিন্তু একই দিনে ব্রাজিলের জয় উদযাপনের পরপরই চিরন্তন সত্যের মতো এক নাটকীয় অঘটনের মুখোমুখি হতে হয়েছে ক্লেমেন্টের নিজের দেশ জার্মানিকে।সোমবার নকআউট পর্বের শেষ বত্রিশের ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মান ফুটবলারদের ওপর চরম মানসিক চাপ তৈরি করে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই আকস্মিকভাবে বিদায় নিতে হয় ইউরোপের পরাশক্তি জার্মানিকে। এই ঐতিহাসিক পরাজয়টি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত অন্যতম সবচেয়ে বড় অঘটন হিসেবে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এর আগে সোমবার দিনের প্রথম ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হয়ে প্রথমার্ধেই এক গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল।
জাপানি ফুটবলারদের দাপুটে শুরু দেখে গ্যালারির অনেকেই তখন সেই জার্মান গবেষকের গাণিতিক পূর্বাভাসের কথা স্মরণ করছিলেন। তবে বিরতির পর কৌশলগত মাস্টারক্লাস দেখান ব্রাজিলের অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার নিখুঁত রণকৌশল পরিবর্তনের পর দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।
মাঠের এই বাস্তব লড়াইয়ে সব নিখুঁত হিসাব-নিকাশ ও কৃত্রিম পরিসংখ্যানকে ভুল প্রমাণ করে শেষ হাসি হেসেছে ব্রাজিল। যে গবেষক গাণিতিক মডেল দিয়ে অন্যের নিশ্চিত বিদায়ের কথা ঘোষণা করেছিলেন, দিনের শেষে তাকেই দেখতে হলো নিজ দেশের অপ্রত্যাশিত ও করুণ বিদায়। এই দুই বিপরীতধর্মী ম্যাচ আবারও প্রমাণ করল যে মাঠের ফুটবল কখনো কোনো গাণিতিক ছকে বাঁধা যায় না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন