জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে লিওনেল মেসি প্রায় সব ধরনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলেছেন। তবে বিস্ময়করভাবে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার কখনো মাঠে নামা হয়নি। ৩৯ বছর বয়সে এসে অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমবারের মতো ইংলিশদের মুখোমুখি হচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির স্বপ্নচলা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে।
সে বছর বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা পাওয়ার পর নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি। এরপর আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটে তার। তবে সেই অভিষেক ছিল তিক্ত অভিজ্ঞতায় ভরা। লিসান্দ্রো লোপেজের বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৯০ সেকেন্ড পরই কনুই দিয়ে আঘাত করার দায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
সেই লাল কার্ডের কারণে তিন মাস পর জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এরপর থেকে দুই দেশের আর মুখোমুখি লড়াই হয়নি। ফলে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি। কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর মেসি বলেছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ, কারণ তারা বড় ফুটবল শক্তি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এমন দলের বিপক্ষে খেলতে পারাটা দারুণ ব্যাপার।
দুই দেশের যেকোনো লড়াই মনে করিয়ে দেয় ১৯৮৬ সালের মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের কথা। সেই কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং শতাব্দীর সেরা গোলটি আজও ফুটবল ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। মেসিও চাইছেন নিজের পূর্বসূরির মতোই স্মরণীয় ছাপ রেখে যেতে।
চলতি টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে উঠেছেন মেসি। ৩২টি ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ২১। আরেকটি জয়ের মাধ্যমে তিনি দলকে ফাইনালে নিয়ে যেতে চান এবং লক্ষ্য স্থির রেখেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর মতো টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ডের দিকে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন