জুলাই ১৬, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
অনেকে যখন ভেবেছিলেন লিওনেল মেসির সেরা সময় হয়তো শেষ, ঠিক তখনই তিনি প্রমাণ করলেন তার জাদুকরী পায়ের ক্ষমতা এখনো অটুট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৩৯ বছর বয়সী মেসি যেন নিজের বার্সেলোনার সময়ের যৌবন ফিরিয়ে এনেছিলেন। তার পায়ের জাদুতে ভেঙে চুরমার হয়েছে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ।এই ম্যাচে ৯টি সফল ড্রিবল ও ১২টি ডুয়েল জিতেছেন মেসি, যা সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে অবিশ্বাস্য।
ম্যাচটিতে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি পুরো কৌশলে পরিবর্তন এনেছিলেন। কিন্তু খেলার প্রয়োজনে মেসি যখন নিজের ছন্দ খুঁজে পেলেন, তখন ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। ৩৬ মিনিটে তিনজনকে কাটিয়ে তার দৌড় ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বাধ্য করেছিল ফাউল করতে। ৪২ মিনিটে জন স্টোনসের মাঝ দিয়ে বল বের করে তার ভেতরে ঢোকার দৃশ্যটি যেন ২৫ বছর বয়সী মেসিকে মনে করিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচটিতে মেসি শুধু আক্রমণই করেননি, দলের খেলায় যোগানদাতা হিসেবেও ছিলেন অনন্য। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজকে বাড়ানো সেই অ্যাসিস্ট কিংবা ডান পা দিয়ে লাউতারো মার্টিনেজের জন্য করা ক্রসটি ছিল নিখুঁত। তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের জন্য বিভ্রান্তিকর। পিকফোর্ডকে একাধিকবার পরাস্ত করতে না পারলেও গোলপোস্টের সামনে তার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল বিপজ্জনক।
সত্যি বলতে, এই ম্যাচটি একাই বের করেছেন লিওনেল মেসি। স্কালোনি এতদিন মেসিকে কম পরিশ্রম করিয়ে ফিট রাখার চেষ্টা করলেও, আজ মেসি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন দলের প্রাণ। ড্রিবলিং, পাসিং আর খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে তিনি যে দায়িত্ব নিয়েছেন, তা ৩৯ বছর বয়সে এক বিরল নজির। ফুটবল ভক্তদের কাছে এই ম্যাচটি দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে মেসির অদম্য শক্তির প্রতীক হিসেবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন