জুলাই ১৯, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের মহারণের আগে ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন দুই দলের কৌশলের দিকে। স্পেন বনাম আর্জেন্টিনার এই লড়াইয়ে স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও আক্রমণাত্মক ধারা ভাঙতে আর্জেন্টিনাকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পেন মূলত বল পজিশন ও উইং নির্ভর আক্রমণে বিশ্বাসী। তারা রদ্রিকে ভিত্তি করে আক্রমণ গড়ে তোলে এবং দুই প্রান্ত দিয়ে ওভারল্যাপ করে বক্সের ভেতর আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে।আর্জেন্টিনার কৌশল হবে মূলত ফিজিক্যাল ফুটবল।
স্পেনের এই গুছানো আক্রমণকে প্রতিহত করতে আর্জেন্টিনাকে মাঝমাঠের দখল নিতে হবে। এক্ষেত্রে পারেদেস ও মাক আলিস্তারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারেদেস ডিফেন্সিভ স্টেবিলিটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্লে-মেকারদের ব্লাইন্ড স্পেস কাভার করে রাখার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। অন্যদিকে, মাক আলিস্তার ফ্রিম্যান হিসেবে খেলে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন। দক্ষিণ আমেরিকান ঘরানার ফিজিক্যাল ফুটবল খেলার মাধ্যমে স্পেনের ছন্দ নষ্ট করাই হবে আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য।
স্পেন সাধারণত হাইলাইন রক্ষণ কৌশল অবলম্বন করে, যা আর্জেন্টিনার জন্য একটি সুযোগ হতে পারে। বিশেষ করে হুলিয়ান আলভারেজের গতি কাজে লাগিয়ে যদি লং বল বাড়ানো যায়, তবে তা স্পেনের রক্ষণে বড় ফাটল ধরাতে পারে। মেসি যদি নিখুঁত থ্রু বল বাড়াতে পারেন, তবে আলভারেজের গোল করার সম্ভাবনা বাড়বে। পাশাপাশি সেট পিসে আর্জেন্টিনা বরাবরই ভয়ঙ্কর। লাউতারো মার্তিনেজকে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবহার করে ক্রস ও কর্নার থেকে গোল করার সুযোগও নিতে পারে দলটি।
তবে স্পেনের রক্ষণভাগ এবারের বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তারা প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগই দিচ্ছে। তাই আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে হলে দুই দলকেই তাদের রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক কৌশলের মধ্যে দারুণ ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই মহাকাব্যিক ফাইনাল দেখার জন্য।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন